Archive for September 2016

জুলিয়া হেইডেন এর গল্প : ফ্রিটজী ফ্রগ তার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছিল


একদা -- 
একদিন সকালে ফ্রিটজী নামের একটি ব্যাং ঘুম থেকে উঠে কথা বলার চেষ্টা করলো কিন্তু সে কথা বলতে পারল না।
ফ্রিটজী বুঝতে পারল সে তার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছে।
সে চিন্তা করলো তার কণ্ঠস্বর বেশি দূরে চলে যায় নি, আশে–পাশে কোথাওই আছে।
সে ভাবল বলল; আমি আশে পাশে সবখানে গিয়ে আমার কণ্ঠস্বর খুজে বের করব।
ফ্রিটজী কাগজ এবং পেন্সিল খুজে বের করলো।
সে সেখানে লিখল, “আমি আমার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছি। কেউ কি জানেন কোথায় আছে সেটা? কেউ যদি আমার কণ্ঠস্বর খুজে পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমাকে জানান”।
ফ্রিটজী তার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছিল তাই সে কথা বলতে পারছিল না।
তার কণ্ঠস্বরটা ছিল ক্রক-ক্রক শব্দের মতন।

১:
তখন ফ্রিটজী ফ্রগ লাফিয়ে একটি গাছের উপর দিয়ে অতিক্রম করছিলো, সে রবিন নামের একটি গোলাপকে দেখতে পেল। তার পূর্ণ নাম ছিল রোজি রবিন।
রোজি রবিন সেই গাছের একটি শাখায় বসে ছিল।
রোজি তাকে বলল; গুড মর্নিং ফ্রিটজী। তুমি কেমন আছো বন্ধু?
তখন ফ্রিটজী তার লিখা কাগজটি রোজির সামনে মেলে ধরল। রোজি ফ্রিটজীর লিখাটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ল। তাতে লিখা রয়েছে, “আমি আমার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছি। কেউ কি জানেন কোথায় আছে সেটা? কেউ যদি আমার কণ্ঠস্বর খুজে পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমাকে জানান”।
তখন রোজি বলল; হা ফ্রিটজী আমি তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি। তোমার কণ্ঠস্বর এখন এই গাছটির পিছনেই লুকিয়ে আছে।
এরপর যখন ফ্রিটজী ও রোজি গাছটির পিছনে তাকাল ঠিক তখন ফ্রিটজীর কণ্ঠস্বর সেখান থেকে পালিয়ে গেল।

২:
তখন ফ্রিটজী ফ্রগ একটি সবুজ তৃণভূমি উপর দিয়ে লাফিয়ে চলল।
পথিমধ্যে - গেভিন নামের একটি ঘাসফড়িং, তার পুরো নাম গেভিন গ্রাসহোপার সেখানে দাড়িয়ে ছিল।
গেভিন গ্রাসহোপার তাকে বলল; হাই, ফ্রেন্ড। তুমি কেমন আছো?
তখন ফ্রিটজী তার লিখা কাগজটি গেভিন গ্রাসহোপারের সামনে মেলে ধরল। গেভিন গ্রাসহোপার ফ্রিটজীর লিখাটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ল। তাতে লিখা রয়েছে, “আমি আমার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছি। কেউ কি জানেন কোথায় আছে সেটা? কেউ যদি আমার কণ্ঠস্বর খুজে পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমাকে জানান”।
তখন গেভিন বলল; আমি তো তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি। এটা এই ফুল গুলির মাঝে লুকিয়ে আছে। ওখানে খুজে দেখ পেয়ে যাবে।
এরপর যখন ফ্রিটজী ও গেভিন ফুলদের মাঝে তার কণ্ঠস্বর খুজতে লাগলো, কিন্তু ততক্ষনে ফ্রিটজীর কণ্ঠস্বর সেখান থেকে পালিয়ে গেল।

৩:
তখন ফ্রিটজী ফ্রগ একটি পাহাড়ের পাশ দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে চলল। পাহাড়ের চুড়ায় ঘাসের মাঝে রেবেকা নামের একটি খরগোস দাড়িয়ে ছিল। তার পুরো নাম রেবেকা রেবিট।
রেবেকা রেবিট তাকে ডাকল; হ্যালো বন্ধু ফ্রিটজী ফ্রগ। কোথায় যাচ্ছ?
তখন ফ্রিটজী তার লিখা কাগজটি রেবেকা রেবিটের সামনে মেলে ধরল। রেবেকা রেবিট ফ্রিটজীর লিখাটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ল। তাতে লিখা রয়েছে, “আমি আমার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছি। কেউ কি জানেন কোথায় আছে সেটা? কেউ যদি আমার কণ্ঠস্বর খুজে পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমাকে জানান”। 
তখন রেবেকা বলল; আমি তো তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি ফ্রিটজী। এটা আমার খরগোসের গর্তে লুকিয়ে আছে।  এসো, আমার বাসায় এসো, আমরা একসাথে খুজে দেখি।
তারা দুজন যখন ফ্রিটজীর কণ্ঠস্বর খুজতে সেই গর্তে প্রবেশ করলো। ততক্ষনে কণ্ঠস্বর পালিয়ে চলে গেল।

৪:
এরপর ফ্রিটজী ফ্রগ একটি জলপ্রপাতের পাশে এক খণ্ড পাথরের পাশে দিয়ে লাফিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে লেস্টার নামের তার এক টিকটিকি বন্ধু, যার পুরো নাম লেস্টার লিযার্ড।
লেস্টার লিযার্ড তাকে ডাক দিল; প্রিয় বন্ধু, ফ্রিটজী ফ্রগ। এতো মন খারাপ করে কোথায় যাচ্ছ ভাই?
তখন ফ্রিটজী তার লিখা কাগজটি লেস্টার লিযার্ডের সামনে মেলে ধরল। লেস্টার লিযার্ড ফ্রিটজীর লিখাটা খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ল। তাতে লিখা রয়েছে, “আমি আমার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছি। কেউ কি জানেন কোথায় আছে সেটা? কেউ যদি আমার কণ্ঠস্বর খুজে পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে আমাকে জানান”।  
তখন লেস্টার বলল, আমি তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছি ফ্রিটজী। এটা এই পাথরের নিচে লুকিয়ে আছে। চলো দুজনে মিলে খুজে দেখি।
কিন্তু তারা দুজন যখন সেই পাথরের নিচে কণ্ঠস্বরকে খুজতে গেল, ঠিক তখন ফ্রিটজীর কণ্ঠস্বর আবার পালিয়ে চলে গেল।

পরিশেষে --
এভাবে তার কণ্ঠস্বর খুজতে খুজতে ফ্রিটজী অনেক ক্লান্ত হয়ে গেল।
অতঃপর ফ্রিটজী ফ্রগ তার আবাস ভুমিতে ফিরে গেল। সে যে পুকুরটিতে বাস করত। লাফিয়ে সেই পুকুরে ঝাপিয়ে পড়ল। সেখানে তার আরো অনেক ব্যাং বন্ধুরা আছে।
ফ্রিটজীর বন্ধুরা তাকে সেই দিঘির জলে পদ্মফুলের পাতা দেখালো। ফ্রিটজী সেই পদ্মফুলের দিকে এগিয়ে গেলো।
হা। সে শুনতে পাচ্ছে। সেই পদ্মফুলের পাতার নিচ থেকে তার কণ্ঠস্বরের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ক্রক,  ক্রক।
হা। ফ্রিটজী চিনতে পারল। এটাই তার কণ্ঠস্বর।
ফ্রিটজীর কণ্ঠস্বর তার কাছে ফিরে আসলো। তখন ফ্রিটজীর মনে অনেক আনন্দ হল।
ফ্রিটজীর বন্ধুরা সবাই একসাথে আনন্দ করে উঠলো।
সেই আনন্দের শব্দ আস্তে আস্তে বাড়তে লাগলো।
ক্রক,  ক্রক, ক্রক . . . . .
সারা রাত ধরে।
ফ্রিটজীর কণ্ঠস্বর ফিরে পাবার আনন্দ!
ক্রক,  ক্রক, ক্রক . . . . .
- - -
মুল গল্প: “ফ্রিটজী ফ্রগ তার কণ্ঠস্বর হারিয়ে ফেলেছিল”, লেখক: জুলিয়া হেইডেন
অনুবাদ ও পরিমার্জিত: ড. রাইখ হাতাশি

Amnesty International

Amnesty International
What is Amnesty International?

Ekattor Television

Popular Post

Blog Archive

Powered by Blogger.

- Copyright © Kohekaf Nagor -Kohekaf Nagor (Audacity)- Powered by Blogger - Designed by Johanes Djogan -